বাংলাদেশকে জানুন এবং জানানঃ পর্ব ০১

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনবহুল রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ভূ-রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়, পূর্ব সীমান্তে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য এবং দক্ষিণ উপকূলের দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভৌগোলিকভাবে একটি উর্বর ব-দ্বীপের অংশ বিশেষ। পার্শ্ববর্তী দেশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা-সহ বাংলাদেশ একটি ভৌগোলিকভাবে জাতিগত ও ভাষাগত “বঙ্গ” অঞ্চলটির মানে পূর্ণ করে। “বঙ্গ” ভূখণ্ডের পূর্বাংশ পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত ছিল, যা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পৃথিবীতে যে ক’টি রাষ্ট্র জাতিরাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পায় তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

এক নজরে বাংলাদেশ

সাংবিধানিক নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার ও শনিবার। কিছু কিছু অফিস শনিবার খোলা থাকে।
আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোড : +৮৮০
আন্তর্জাতিক সময় অঞ্চল: বিএসটি (জিএমটি +৬ ঘণ্টা)
জনসংখ্যাঃ ১৬.১৭ কোটি পুরুষ : ৮.১০ কোটি মহিলা : ৮.০৭ কোটি
শিক্ষার হার : ৬৩.৬%
ভাষা : বাংলা (জাতীয় ভাষা) – ৯৫% জনগণ, অন্যান্য ভাষা – ৫%, ইংরেজির ব্যবহার প্রচলিত আছে।
ধর্মঃ মুসলিম – ৮৬.৬%, হিন্দু – ১২.১%, বৌদ্ধ – ০.৬% , খ্রিস্টান – ০.৪% এবং
অন্যান্য – ০.৩%.
বয়স-ভিত্তিক বণ্টন :
০-১৪ বছর : ৩০.৮% , ১৫-৪৯ বছর : ৫৩.৭% , ৫০-৫৯ বছর : ৮.২%,
৬০ বছরের ঊর্ধ্বে : ৮.১%
জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার: ১.৩৭%
জন্মহার: প্রতি হাজারে ১৮.৮ জন , মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ৫.১ জন
লিঙ্গ বণ্টন :
লিঙ্গ অনুপাত (প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষ) : ১০০.৩
উর্বরতা হার : নারীপ্রতি ২.৩ শিশু (সূত্র)
জাতিগোষ্ঠী:
বাঙালি : ৯৮%, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী : ২%
প্রধান নৃ গোষ্ঠীসমূহ : চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, গারো, মনিপুরী, ত্রিপুরা, তনচংগা
ভৌগোলিক অবস্থান :
২৬° ৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২০° ৩৪’ উত্তর অক্ষাংশ এবং
৮৮° ০১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২° ৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
আয়তন : ১৪৭,৫৭০ বর্গকিমি (ভূমি : ১৩৩,৯১০ বর্গকিমি, জলজ : ১০,০৯০ বর্গকিমি)
সীমানা :
উত্তরে ভারত (পশ্চিমবঙ্গ আর মেঘালয়)
পশ্চিমে ভারত (পশ্চিম বঙ্গ )
পূর্বে ভারত (ত্রিপুরা ও আসাম) এবং মিয়ানমার
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর
সীমানা দৈর্ঘ্য : ৪,২৪৬ কিমি. (মায়ানমার : ১৯৩ কিমি., ভারত : ৪,০৫৩ কিমি.)
সমুদ্র সীমানা : ৫৮০ কিমি.
মহীসোপান : মহাদ্বীপীয় মার্জিন বাইরের সীমা অবধি
বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা : ২০০ নটিক্যাল মাইল
সমুদ্র এলাকা : ১২ নটিক্যাল মাইল
ভুমির ধরন : প্রধানত সমভুমি, পূর্ব ও দক্ষিনপূর্বে পাহাড়ি ভুমি
রাজধানী : ঢাকা
এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান :
বিভাগ ৮টি – ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর,ময়মনসিংহ
জেলা ৬৪ টি, উপজেলা ৪৯১ টি
প্রধান নদীসমূহ : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমা, ব্রম্মপুত্র, কর্ণফুলী, তিস্তা, শীতলক্ষ্যা, রূপসা, মধুমতি, গড়াই, মহানন্দা
জলবায়ুর ধরন : উপ ক্রান্তীয় মৌসুমি বায়ু
গড় তাপমাত্রা : শীতকালে ১১° সি – ২০° সি (অক্টোবর – ফেব্রুয়ারি)
গ্রীষ্মকালে ২১° সি – ৩৮° সি (মার্চ – সেপ্টেম্বর)
বৃষ্টিপাত : ১১০০ মিমি. – ৩৪০০ মিমি. (জুন – আগস্ট)
সর্বোচ্চ ৯৯% (জুলাই),
সর্বনিম্ন ৩৬% (ডিসেম্বর – জানুয়ারি)

অর্থনীতি
অর্জন : বাংলাদেশ D-8 এর সদস্য।
গোল্ডম্যান স্যাস কর্তৃক “Next Eleven Economy of the world” হিসেবে বিবেচিত।
মাথাপিছু আয় : $১,৬০২
জিডিপি প্রবৃদ্ধি (%) : ৭.২৪
দারিদ্র্যের হার : ২৩.৫%
মানব উন্নয়ন সূচকে অবস্থান : ১৩৯ তম
আন্তর্জাতিক অনুদান নির্ভরতা: ২%
প্রধান ফসল : ধান, পাট, চা, গম, আঁখ, ডাল, সরিষা, আলু, সবজি, ইত্যাদি।
প্রধান শিল্প : পোশাকশিল্প (পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম শিল্প), পাট (বিশ্বের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী), চা, সিরামিক, সিমেন্ট, চামড়া, রাসায়নিক দ্রব্য, সার, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত, চিনি, কাগজ, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, ঔষধ, মৎস্য।
প্রধান রপ্তানি : পোশাক (পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম শিল্প), হিমায়িত চিংড়ি, চা, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য (পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম), সিরামিক্স, আইটি আউটসোর্সিং, ইত্যাদি।
প্রধান আমদানি : গম, সার, পেট্রোলিয়াম দ্রব্যাদি, তুলা, খাবার তেল, ইত্যাদি।
প্রধান খনিজ সম্পদ : প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, কয়লা, চিনামাটি, কাচ বালি, ইত্যাদি।

মুদ্রা : টাকা (বিডিটি – প্রতীক ৳)
১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫, ২, ও ১ টাকার নোট আর
৫০, ২৫, ১০, ৫, ২৫, ১০, ৫ ও ১ পয়সা
শ্রমিক বণ্টন: ৫.৪১ কোটি, পুরুষঃ ৩.৭৯ কোটি, নারীঃ ১.৬২ কোটি (সূত্র : বিইএস)
শিল্প-ভিত্তিক শ্রমিক বণ্টন: কৃষি : ৪৮.৪%,শিল্প : ২৪.৩%,অন্যান্য : ২৭.৩%
পরিবহন ব্যবস্থা : সড়ক, আকাশপথ, রেল, নদীপথ
ইপিজেড : ঢাকা, উত্তরা, আদমজী, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, এবং মংলা।

ঐতিহাসিক দিনসমূহ
স্বাধীনতা দিবস: ২৬ মার্চ
বিজয় দিবস: ১৬ ডিসেম্বর
শহীদ দিবস: ২১ ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও পরিচিত)
জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যু দিবসঃ ১৫ আগস্ট
শহীদ বুদ্ধীজীবি দিবসঃ ১৪ ডিসেম্বর

পর্যটন
পর্যটন আকর্ষণ: ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কুয়াকাটা, বগুড়া, খুলনা, সুন্দারবন, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, এবং কুমিল্লা
বিমানবন্দর: ঢাকা (আন্তর্জাতিক), চট্রগ্রাম (আন্তর্জাতিক), সিলেট (আন্তর্জাতিক), যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর, বরিশাল, কক্সবাজার

তথ্য প্রযুক্তি (আইটি)
জাতীয় ডোমেইন: .bd
ইন্টারনেট অনুপ্রবেশ : ৬.৬৭ কোটি (২০১৭) সূত্রঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
মোবাইল ব্যাবহারকারী : ১২ কোটি ৮৩ লক্ষ (২০১৭) সূত্রঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
মোবাইল অনুপ্রবেশ : জনসংখ্যার ৮০%

বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রম
• জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর ৮ম বৃহত্তম দেশ
• ৪র্থ বৃহৎ মুসলিম দেশ, মুসলিম সংখাগরিষ্ঠ দেশ হিসাবে বিশ্বের ৩য় দেশ
• জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক দিয়ে বিশ্বের ৭ম বৃহৎ দেশ, ১০ কোটির উপর জনসংখ্যার দেশ হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ (সূত্র)
• গাঙ্গেয় বদ্বীপে অবস্থিত, যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ
• কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত
• জিডিপির দিক থেকে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীর ৩৫তম দেশ কিন্তু জিডিপি বৃদ্ধির দিক থেকে পৃথিবীর ২৮তম অর্থনীতি (সূত্র)
• বাংলাদেশের পোশাকশিল্প পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম পোশাকশিল্প (সূত্র)
• পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাট উৎপাদনকারী দেশ (পাট উদ্ভিজ্জ আঁশের মধ্যে উৎপাদনের দিক দিয়ে ২য়, তুলার পরেই অবস্থান)
• সুন্দরবন (বাংলাদেশ ও ভারত) পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন
• বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নূন্যতম মজুরি পৃথিবীর সর্বনিম্ন
• বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর নবম

(সূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)
(সুত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা – ২০১৭)

ইয়ুথ ভিলেজ ডেস্ক/ এ আর হিমু