থাইরয়েডের জানাঅজানা

থাইরয়েড হল আমাদের গলায় অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থাইরয়েড হরমোন তৈরীর জন্য দায়ী। প্রথমে ব্রেনের হাইপোথালামাস থেকে TRH নামে একটি হরমোন তৈরী হয়। TRH তারপর পিটুইটারি নামের অন্য একটি গ্রন্থি কে উদ্দিপীত করলে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে TSH নামে একটি হরমোন তৈরী হয়। এই হরমোন আবার থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করলে, খাবার থেকে প্রাপ্ত আয়োডিন কে ব্যবহার করে থাইরয়েড হরমোন তৈরী হয়। থাইরয়েড হরমোন দুই প্রকার-T3(০.১%) এবং T4(৯৯.৯%), এই হরমোন দুটি আমাদের শরীরের অনেক গুরত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদনে ভূমিকা রাখে। হাইপোথালামাস, পিটুইটারি ও থাইরয়েড গ্রন্থি এই তিনটার যে কোন একটাতে সমস্যা থাকলেই, শরীরে থাইরয়েড হরমোন এর পরিমাণে বেশকম হয়ে যাবে। তাছাড়া আয়োডিন এর অভাব হলেও, থাইরয়েড হরমোনের পরিমান কমে যাবে। যদি শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে যায় তবে তাকে বলে “হাইপোথাইরয়েডিসম” আর যদি বেড়ে যায়, তাকে বলে “হাইপারথাইরয়েডিসম”।
হাইপারথাইরয়েডিসম এর লক্ষন সমূহঃ
১) অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
২) গরম সহ্য করতে না পারা
৩) হাত পা হালকা কাপা
৪) নার্ভাসনেস
৫) মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
৬) হার্টবিট বেড়ে যাওয়া
৭) হঠাত করে ওজন কমে যাওয়া
৮) অনেক খেয়েও ওজন বাড়াতে না পারা
৯) অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পরা
১০) কাজে মনোযোগের অভাব
১১) মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব
১২) ঋতুস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
১৩) ঘুম কম হওয়া
১৪) বড় বড় কোটর থেকে বের হয়ে আসা চোখ।
বর্তমানে আমাদের দেশের নারী-পুরুষদের মাঝে হাইপারথাইরয়েডিসম অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
ইয়ুথ ভিলেজ/বিশেষ প্রতিবেদক/ফারাহ আহমেদ