তরুণরা আশাবাদীঃ মারুফ লিয়াকত

বাংলাদেশের বর্তমানে মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ তরুণ আর আমাদের দেশে আগামী ২০৪০ সাল পর্যন্ত এই অবস্থা বিরাজ করবে। বিশ্বায়নের যুগে আমাদের তরুণ রাও তাল তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চেষ্ঠা করছে। আর তরুণদের আর শক্তিশালী, দূরদর্শী ও অর্থনৈতিক ভাবে  সাবলম্বিন করে তুলতে সামনে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সমাজে অনেক প্রতিস্থান, ব্যাক্তি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তেমনি একজন তরুণ উদ্যোক্তা হলেন লিয়াকত আলী চালাদার মারুফ । ইয়ুথ ভিলেজের প্রতিনিধির সাথে বিশেষ সাক্ষাতকার।

আপনার ব্যক্তিগত জীবন ও ছোট বেলা কেমন ছিল?

আমি মাদারীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মা দুই জনই সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই ঢাকায় বেড়ে ওঠা। মধ্য বিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ার কারনে নিজের অনেক চাহিদায় সময় মত পূরণ করতে পারতাম না। এই ক্ষোভটাকেই  পরবর্তীতে শক্তিতে পরিণত করেছি। ২০০৪ সালে এস এস সি পাশ করি। কখন বলব না নিজে অনেক মেধাবী ছিলাম কিন্তু যতটুকু দরকার তা পড়াশুনা করতাম। ২০০৬ সালে ঢাকা সিটি কলেজ হতে এইচ এস সি পাশ করার পর আমি নর্থ সাঊথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স করি। তারপর ডেভোলাপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতকত্তোর ডিগ্রী অর্জন করি। এবং সবশেষ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই বি এ হতে এমডিপি সম্পূর্ণ করি। পড়াশোনায় মনোযোগ কম থাকলেও প্রাকটিক্যাল কাজ কর্মে আমার ছিল বেশ আগ্রহ। মানুষের সাথে কথা বলতে ও মিশতে খুব পছন্দ করতাম আমি। গুছিয়ে কথা বলার একটা প্রবণতা আমার মধ্যে ছোট বেলা থেকেই ছিল।

আপনার কর্ম জীবনের শুরু কবে?

আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বছর বয়শ হতে চাকুরী জীবন শুরু করি। আমি আমার দশ বছর ক্যারিয়ারে মাত্র একবার ইন্টারভিউ বোর্ডের মুখোমুখী হই। আমার জীবনের প্রথম ইন্টারভিও দেশের সনামধ্যন রিয়েলস্টেট কোম্পানী অ্যাডভানস গ্রুপ এ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষ হতে যখন চিন্তা করা শুরু করলাম নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তখন আগে আমার নিজের SWOT আন্যালাসিস করলাম। চিন্তা করলাম আমি কি পারি কি পারি না, চেষ্ঠা করলে কি করতে পারবো।  আমি ছোট কাল হতেই দেখলেম আমি খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারি, মানুষকে কনভেন্স করতে পারি, মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারি। তখন দেখলাম আমাদের চাকুরী বাজারে সবচেয়ে বেশী দরকার একজন দক্ষ সেলসম্যানের তাই আমি চিন্তা করলাম আমি একজন দক্ষ সেলসম্যান হব। তাই নিজের জীবনের প্রথম চাকরী একটি রিয়েল সেস্টট কোম্পানীতে।

চাকরীজীবি থেকে উদ্যাক্তা কেন এবং আপনার মতে কোন দক্ষতা বেশী প্রয়োজন ?

আমার বাবা চাকুরীজীবি ছিলেন। তাই আমাদের পরিবার সব সময় একটি নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে চলত। আমার কিছু ইচ্ছা করলে বাবা বা মা বলতেন পরের মাসে কিনে দিবেন তখন আমাকে খুব খারাপ লাগত । তখন থেকেই একটা ইচ্ছা ছিল নিজে এমন কিছু একটা করব যা দিয়ে আমার ও আমার পরিবারের যে কোন ইচ্ছা যেন পূরণ করতে পারি। তার থেকে ইন্টিরিউর স্টেডিও যাত্রা। আমি মনে করি আমার চাকরী জীবন আমাকে উদ্যোক্তা হতে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমার চাকরী জীবনের অভিজ্ঞতা আমাকে উদ্যোক্তা হতে বেশী শক্তি দিয়েছে। আমি মনে করি উদ্যোক্তা হতে অব্যশই প্র্যাক্টিকেল জীবনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

কর্ম জীবনের শুরু আপনার পরিবার বন্ধু হতে কোন প্রতিবন্ধকতা কি পেয়েছেন ?

বাবা মা যেহেতু সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন তাই তাদের ইচ্ছা ছিল আমিও যাতে সরকারী চাকুরী করি। তবে তারা আমাকে কখন কিছু চাপিয়ে দিতেন না। আমার পাশে থাকতেন। আর বন্ধুরা চাকুরীর শুরুর দিকে মজা করত তবে তারা যখন দেখতে পারল আমি আর্থিক ভাবে সচ্ছল হতে শুর করেছি তারা মজা করা বন্ধ করে দিল। আর আমি সব সময় ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সাথে মিশতে ভালো ভাসতাম তাই আমি আমার বন্ধুদের বেশী সময় দিতে পারতাম না আড্ডা দিতে পারতাম না। আমি মনের করি আমাদের তরুণেরা যত সময় আড্ডা বা সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যয় করে ঐ সময়ে তার অনেক কিছু করতে পারবে।

আপনার অনুপ্রেরণা কে?

আমি মনে করি আমার অনুপ্রেরণা আমার মধ্যবিত্ত কনজারভেটিভ পারিপার্শ্বিকতা। মানে আমি যখন ছোট বেলায় কিছু ইচ্ছা অতি সহজে পূরন করতে পারতাম না এই কষ্ঠটা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

আপনার ও ই-ক্লাবের তরুণদের নিয়ে কি ভাবনা?

আমাদের দেশের তরুণ রা অনেক আশাবাদী। তাদের একটু গাইড করলে অনেক কিছু করা সম্ভব। ই-ক্লাব হল উদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন তবে আমরা যারা তরুণ উদ্যোক্তা হতে চায় তারদের জন্য স্টুডেন্ট টু এন্ট্রোরপেইনার নামে যৌথ ভাবে একটি প্রজেক্ট গ্রহন করেছি। আমারা মেন্টরিয়ের মাধ্যমে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের নিয়ে কাজ করব।

আপনার তরুণদের প্রতি কোন উপদেশ?

আমাদের তরুণরা অনেক দূরদর্শী চিন্তা করে তারা অনেক সম্ভাবনাময়ী। তাই আমি তাদের উদ্দ্যেশে বলব-

পড়াশুনার পাশা পাশি নতুন কিছু করার। অযথা সময় নষ্ঠ না করা। প্রেক্টিকেল অভিজ্ঞতা গ্রহণ করা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভালো কিছু শিখা ও মানুষের সাথে নেটওয়ার্কিং করা।

ইয়ুথ ভিলেজ/বিশেষ প্রতিবেদক এ আর হিমেল